সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ফাদার মারিনো রিগনের অবদান অবিস্মরণীয়। বক্তারা বলেছেন, ফাদার রিগনকে বাদ দিয়ে আধুনিক মোংলাকে কল্পনা করা যায় না।
পঞ্চাশের দশকে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে যেভাবে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, তা এই অঞ্চলের ইতিহাসে অনন্য নজির হয়ে থাকবে। তিনি না আসলে মোংলার অনেক মানুষ আজও অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকত।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোংলায় ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধি চত্বরে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্ট পল্স ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ এবং ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শেখ ফরিদুল বলেন, "ফাদার মারিনো রিগন কেবল মানবসেবাই করেননি, তিনি এদেশের শিল্প, সাহিত্য ও প্রকৃতির প্রেমে পড়েছিলেন। তিনি সুন্দরবন উপকূলে মানব ও প্রকৃতির মুক্তির জন্য কাজ করেছেন।"
মোংলা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ফাদার রিগনের মাথায় ছিল রবীন্দ্রনাথ আর অন্তরে ছিল লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিনশ গান ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মোংলা অঞ্চলে ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সেলাই কেন্দ্র স্থাপন করে তিনি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করেছে।
স্মরণানুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে ফাদার রিগনের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।