বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছিল ব্রাজিল। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। শেষ পর্যন্ত ম্যাথিউস কুনিয়ার জোড়া গোলে জয়ের পথে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। দ্বিতীয় মিনিটেই রাফিনিয়া ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। তবে হাইতির ডিফেন্ডার এক্সপেরিয়েন্স তার আক্রমণ রুখে দেন। চার মিনিটের মাথায় ডগলাস সান্তোসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কার্লেন্স আর্কুস। এটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত হলুদ কার্ড।
ব্রাজিলের লাগাতার চাপে শুরু থেকেই রক্ষণে ব্যস্ত ছিল হাইতি। ষষ্ঠ মিনিটে গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে গোলকিক নিতে বেশি সময় নেওয়ায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী কর্নার পায় ব্রাজিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
নবম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়লেও ডিফেন্ডার ডুভার্নের নিখুঁত ট্যাকলে থেমে যায় তার আক্রমণ। এরপর ১২ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের চমৎকার পাস থেকে রাফিনিয়া বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
যদিও বলের দখলে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল হাইতি, তবু সংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে ব্রাজিলকে বেশ ভুগতে হয়। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র ৩৪ শতাংশ বলের দখল পেয়েও কোনো শট নিতে না পারলেও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল উপহার দিচ্ছিল ক্যারিবীয় দেশটি।
তবে ২৩ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে প্রথমে বল ঠেকালেও সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার ক্লিয়ার করার চেষ্টা ম্যাথিউস কুনিয়ার গায়ে লেগে ফাঁকা জালে ঢুকে যায়। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের হয়ে ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপে কুতিনহোর ২০ মিনিটের গোলের পর সবচেয়ে দ্রুত গোল।
৩৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনিয়া। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার অসাধারণ বাঁকানো শট হাইতির জালে আশ্রয় নেয়। গোলরক্ষক প্লাসিদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি।
কুনিয়ার জোড়া গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ব্রাজিল। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে হাইতি ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাদের তেমন কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে স্বস্তির লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।