বরেন্দ্রর পুকুর খননে অনিয়মের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত নাচোলের কৃষক

কেতাবুল ইসলাম, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পরিচালিত সরকারি পুকুর খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত নকশা (সিডিউল) অনুযায়ী কাজ না করা, প্রকল্প এলাকায় তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকা এবং কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে অনেক কৃষক প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননকাজ চললেও অধিকাংশ প্রকল্পে কোনো সিডিউল বা তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয়, কাজের ধরন ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ থাকছে না।

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা বরেন্দ্র প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ধরনের কাজে সাইনবোর্ড না থাকলেও সমস্যা নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই বুঝতে পারবেন।”

 

তিনি জানান, নাচোল উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৯টি পুকুর খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পুকুরে দুটি করে ঘাট নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও বিভিন্ন সংকটের কারণে সব জায়গায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বরেন্দ্র কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাচোল উপজেলায় সরকারি পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৭০২টি পুকুর খনন করা হয়েছে।

 

উপজেলা বরেন্দ্র প্রকৌশলী আরও জানান, উপজেলায় মোট ৫৫০টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০টি সচল, ১০টি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং বাকি ৪০টি সীমিত পরিসরে মিনি ডিপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেচব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ফলে কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “পর্যায়ক্রমে সব কাজ সম্পন্ন করা হবে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে নাচোল উপজেলার সরকারি পুকুর খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

 

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত