দেশে ৩ কোটি ৮০ লাখ কিডনি রোগী: জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
 ছবি: নিউজ ওয়ান
ছবি: নিউজ ওয়ান

দেশে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট তাপদাহ, লবণাক্ততা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে কিডনি রোগ বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ মৃত্যুঘাতী রোগে পরিণত হবে।

 

​শনিবার (০৭ মার্চ, ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও কিডনি রোগ: ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা এসব তথ্য জানান।

 

​বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাম্পস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত, যা ডায়াবেটিস রোগীদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এছাড়া আরও ২৪ থেকে ৩০ হাজার রোগী হঠাৎ কিডনি বিকল হওয়ার শিকার হচ্ছে।

 

​ডা. সামাদ আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিশূন্যতা ও আকস্মিক কিডনি বিকল (AKI) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানির ব্যবহারের কারণেও এই রোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

 

​বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে শনাক্ত করা গেলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব, কিন্তু পরের ধাপে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

 

​বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি হলেও ডায়ালাইসিস সুবিধার ৬২ শতাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক। সরকারি উদ্যোগে ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে এই সেবা দ্রুত সম্প্রসারণ করা জরুরি।

 

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তিনি বলেন, একটি পরিবারে একজন কিডনি রোগী থাকা মানে পুরো পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া। ক্যাম্পস-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

 

​গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জোবায়দা বেগম, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, পরিবেশবিদ ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম, ক্যাম্পস-এর নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ান সালেহীন প্রমুখ।

 

​বক্তারা বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান বর্জন করার মাধ্যমে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি পরীক্ষার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্ক্রিনিং সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিষয়:

কিডনি রোগী
এলাকার খবর

সম্পর্কিত