নারীদের উচ্চশিক্ষা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক :
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল বৃহস্পতিবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত করা হবে এবং প্রান্তিক পরিবারের নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার দলের এই আগামীর পরিকল্পনার কথা জানান। সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, এককভাবে সরকার গঠন এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

 

নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিলেন। এটি ছিল নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করার প্রথম পদক্ষেপ। আমরা সরকার গঠন করলে এই শিক্ষার সুযোগ আরও উচ্চস্তর (হায়ার ক্লাস) পর্যন্ত নিয়ে যাব।’

তিনি আরও জানান, গৃহিণীদের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে বিএনপি।

 

এককভাবে সরকার গঠনের লক্ষ্য

 

ভোট পরবর্তী জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায়। কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র হতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি। সবাই যদি সরকারে চলে আসে, তবে দেশ চলবে কীভাবে?’ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে এবং বিএনপিও সে ব্যাপারে আশাবাদী।

 

১৭ বছরের নির্বাসন ও ব্যক্তিগত শোক

 

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা (বেগম খালেদা জিয়া) মারা গেলেন। একদিকে নির্বাচনি ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত শোক—এই দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাওয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

 

পররাষ্ট্রনীতি ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে 

 

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের মানুষের স্বার্থই সবার আগে। ‘যদি দেখি কোনো চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হচ্ছে, তবে যেকোনো দেশের সাথেই আমাদের দূরত্ব তৈরি হবে,’ যোগ করেন তিনি।

 

দলের প্রার্থীদের নামে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধার কারণে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্নীতি আর পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হওয়া এক বিষয় নয়। এছাড়া ১৫-১৬ বছরের গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত