গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ সগৌরবে উদযাপিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) আনসার ও ভিডিপি একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোঃ তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ সালাউদ্দিন এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে গৌরবজনক উপলক্ষ। আমি বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্য এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।”
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ থেকে তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি—এই চারটি স্তম্ভ দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পুরুষ ও মহিলা ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা, মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছে। নগর এলাকায় টিডিপি সদস্যরাও নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।
মানবসম্পদ উন্নয়নে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও 6G ওয়েল্ডিংসহ আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপিকে নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বাহিনীটির দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।