রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি প্রচেষ্টার পর নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০০ ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৩৫ মিনিট দেরি হয়। সংকীর্ণ রাস্তার কারণে বড় ইউনিটগুলো ভিতরে ঢুকতে না পারলেও ফায়ার ফাইটাররা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ চালান। আগুন ‘ডেভেলপ স্টেজ’-এ পৌঁছে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লাগে।
তিনি বলেন, বস্তির যত্রতত্র বৈদ্যুতিক তার ও ঘনবসতিপূর্ণ ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। আগুনের উৎস তদন্ত করে জানা যাবে।
হতাহতের বিষয়ে তিনি জানান, বড় ধরনের ক্ষতির খবর নেই; কেউ সামান্য আহত হয়ে থাকতে পারেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণও তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও আগুন লাগার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মহড়ার কারণে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পানির স্বল্পতাও ছিল না—ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং ড্রেন থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়।
হেলিকপ্টার ব্যবহারের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, হেলিকপ্টারের বাতাস আগুন আরও ছড়িয়ে দিতে পারে; তাই এ ধরনের আগুন এতে নেভানো সম্ভব নয়।
ফায়ার সার্ভিস মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পায়। শুরুতে ১১টি ইউনিট, পরে আরও ৮টি যোগ দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করে।