নোয়াখালীর হাতিয়ায় জমি দখলের অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তরা পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা।
শুক্রবার দুপুরে হাতিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী তাহমিনা খানম ইলফাত।
তিনি জানান, ২০১৯ ও ২০২৫ সালে স্থানীয় ওবায়দুল হক ও তার ছেলে মো. এরশাদের কাছ থেকে ৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ এবং সীমানা নির্ধারণ করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিক্রেতারা টাকা গ্রহণ করলেও জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করছেন। একই সঙ্গে জমিটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাহমিনা খানম ইলফাত আরও অভিযোগ করেন, গত ৩ জুন দিবাগত রাতে সজিব উদ্দিন, এরশাদ ওরফে ইয়াছিন আরাফাত, সাখাওয়াত হোসেন, ইউপি সদস্য ছাইফুল ইসলাম, রাসেল উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বাড়ির দরজা কেটে ফেলা হয় এবং নির্মিত গাইড ওয়ালও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তাহমিনা খানম ইলফাতের স্বামী মো. শোয়াইব হোসেন বলেন, এ ঘটনায় গত ৪ জুন হাতিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং তাদের ছোট সন্তানকে হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ঘটনাটি উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে ঘটেছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ পাঠানো হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।