জিগজ্যাগ ইটভাটা অভিযান বন্ধের প্রতিবাদে মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
 ছবি: নিউজ ওয়ান
ছবি: নিউজ ওয়ান

বিগত ৩৫–৪০ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ইটভাটা শিল্প। রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়নের মূল উপকরণ ইট সরবরাহকারী এই খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি।

 

আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত জিগজ্যাগ চিমনি স্থাপন করে সরকার নির্দেশিত নিয়ম মেনে ইট উৎপাদন করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈধ জিগজ্যাগ ভাটায় জরিমানা ও ভাঙচুর অভিযান চালাচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।

 

সমিতি দাবি করে, এই শিল্পে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কর্মরত এবং প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা ইটভাটা-নির্ভর। ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। এছাড়া প্রতিটি ভাটার বিপরীতে গড়ে ১ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ রয়েছে, ফলে ভাটা বন্ধ হলে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা অনাদায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। ইটভাটাগুলো প্রতিবছর রাষ্ট্রকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব প্রদান করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

 

সমিতির প্রধান দাবি সমূহ

 

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি ছয়টি দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো—

 

১. ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ও সংশোধিত আইন ২০১৯–এ জিগজ্যাগ ভাটা বৈধ হলেও ৮(৩)(ঙ) এবং ৮(৩)(খ) ধারা অনুযায়ী ‘দূরত্ব নির্ধারণ’-এর কারণে অনেক মালিক লাইসেন্স ও ছাড়পত্র পাচ্ছেন না।
পরিবেশ অধিদপ্তর হাইব্রিড ও টানেল কিলনের নিষিদ্ধ দূরত্ব ১০০০ মিটার থেকে ৪০০ মিটার নির্ধারণ করেছে—এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারা জিগজ্যাগ ভাটার ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ দূরত্ব ৪০০ মিটার এবং বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে ৭০০ মিটার নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারির দাবি জানায়।

 

২. বৈধ জিগজ্যাগ ইটভাটায় কোনো ধরনের হয়রানি বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না।

 

৩. কোনো ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

 

৪. পরিবেশগত ছাড়পত্র, ডি.সি. লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব নথি ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।

 

৫. ইটভাটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিল্পখাত’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি।

 

৬. ইটভাটা পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলে, অবিলম্বে জটিলতা নিরসন না হলে ইটভাটা শিল্প হুমকির মুখে পড়বে, যা জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত