লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, ধসে পড়ল আবাসিক ভবন—নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের উপশহর হারেত হরাইকে এক আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরের এই হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন হাইথাম আলী তাবাতাবাই—যাকে তিনি হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দাবি করেছেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, হিজবুল্লাহর জনবল বাড়ানো ও অস্ত্র সংগ্রহের নেতৃত্ব দিতেন হাইথাম। তবে তিনি নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহ—কোনো পক্ষই এখনো কিছু জানায়নি।

স্থানীয় টিভি চ্যানেল আল-জাদিদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ফলে ভবন এবং আশপাশে পার্ক করা গাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানায়, ওই এলাকায় তাদের কোনো সামরিক কেন্দ্র নেই।

 

হামলার পর দক্ষিণ বৈরুতের হাসপাতালগুলো জরুরি ভিত্তিতে রক্তের আবেদন জানিয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো দাহিয়ে অঞ্চলের আকাশে টহল দিতে থাকে।

এর আগে দিনটির সকালেই নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছিলেন, হিজবুল্লাহ যাতে আবার শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও রক্তপাত ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বৈরুতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা হয়েছে—ইসরায়েলের বক্তব্য, হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলাই এসব আক্রমণের লক্ষ্য। বর্তমানে লেবানন সীমান্তের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এখনও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বরের পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৩১ জন নিহত এবং ৯৪৫ জন আহত হয়েছেন।

 

সূত্র: এএফপি

এলাকার খবর

সম্পর্কিত