মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া—এমন অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Washington Post।
শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে মস্কো। ফলে ইরানি বাহিনী তুলনামূলকভাবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করতে পারছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সহায়তাকে অনেকেই সমন্বিত গোয়েন্দা সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন। এটি এমন এক ইঙ্গিত, যেখানে কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস রাজি হয়নি। তবে মস্কো আগেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষমতাও কমে আসছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা Central Intelligence Agency (সিআইএ) এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon।
গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ কারণে রাশিয়ার স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ড্রোন হামলা ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে আঘাত হানার সক্ষমতাও বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে Russia–Ukraine War চলাকালে রাশিয়া, ইরান ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতার যে ধারা তৈরি হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তাদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িত না হলেও গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আধুনিক যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অভিযোগের সত্যতা ও পরিস্থিতির অগ্রগতি বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।