প্রথমবার ইসরায়েলে আঘাত হানল ইরানের ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক
 ছবি:
ছবি:

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) দাবি করেছে, রোববার তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে এই শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রথমবারের মতো অত্যন্ত উন্নত ও দূরপাল্লার ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানের অংশ। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একযোগে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে প্রথমবারের মতো কৌশলগত কঠিন জ্বালানিচালিত সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দ্রুতগতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য খুব অল্প সময় প্রয়োজন হয় এবং এর গতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য শনাক্ত করা কঠিন। মূলত ইসরায়েলের বিমানভিত্তিক সামরিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

সিজ্জিলের পাশাপাশি ইরান তাদের ভাণ্ডারে থাকা আরও কয়েক ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খোররামশহর, খায়বার-শেকান এবং দীর্ঘ পাল্লার কদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসি দাবি করেছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আঘাতে ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সেনাদের প্রধান সমাবেশস্থলগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

এই নজিরবিহীন হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত