ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে তিনি বলছেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন–সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক শিক্ষা।
ইসহাক সরকার বলেন, রাজনীতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিনি শত শত মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। রাজনীতির রেশ তার পরিবারের ওপর দিয়েও গেছে। এরপরও সাধারণ মানুষের পাশে থাকা থেকে কখনো পিছপা হননি বলে দাবি করেন তিনি। ইসহাক সরকার বলেন, সংগ্রামই আমাকে মানুষকে কাছ থেকে চেনার সুযোগ দিয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামার বিষয়ে তিনি জানান, ঢাকা–৭ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই তার এই সিদ্ধান্ত। নির্বাচিত হলে তিনি এই আসনকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও উন্নত এলাকায় রূপ দিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার গ্যাস ও পানির সংকট, সরু রাস্তা, যানজট, জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এবং মাদক সমস্যা মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সাহসী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, যা বাস্তবায়নে তিনি প্রস্তুত।
নির্বাচনী প্রচারণায় ইসহাক সরকার আরও বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। রাজপথেই আমার পরিচয়। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিই আমার লক্ষ্য। ভোটারদের কাছে ফুটবল প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ঢাকা–৭ আসনের মানুষের জীবনমান বদলে দিতে কাজ করবেন।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে ইসহাক সরকারকে তারা একজন পরিচিত মুখ হিসেবে দেখছেন। তবে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা–৭ আসনে ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ইসহাক সরকারের প্রচারণাও ততই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। রাজপথের রাজনীতিতে পরিচিত এই নেতা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কী ভূমিকা রাখেন; সেদিকেই এখন নজর পুরান ঢাকাবাসীর।
আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন।