ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই দাবি আদায়ে মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন। মানববন্ধন থেকে ইস্টার সানডে উপলক্ষে আগামী ৫ এপ্রিল নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা এবং পরবর্তী বছর থেকে সরকারি ছুটির তালিকায় তা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। বক্তারা বলেন, ইস্টার সানডে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু এই দিনে সরকারি ছুটি না থাকায় কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করতে পারেন না। এটি দেশের খ্রিষ্টান জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হওয়া সত্ত্বেও বারবার উপেক্ষিত হয়েছে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণার অনুরোধ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করা হয়েছে।
১০ দফা দাবি পেশ:
কর্মসূচি থেকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ১. ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
২. মন্ত্রিসভায় সবসময় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি রাখা। ৩. বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ গণমাধ্যমে বড়দিন ও ইস্টার সানডেকে ঘিরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান প্রচার এবং রাজধানীতে আলোকসজ্জা করা।
৪. সচিবালয়, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিচার বিভাগে খ্রিষ্টান যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
৫. জাতীয় সংসদে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য ৫টি সংরক্ষিত আসন রাখা। ৬. ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া এবং অসাম্প্রদায়িক নীতি বাস্তবায়ন।
৭. সরকারি স্কুলে খ্রিষ্টান শিক্ষার্থীদের জন্য খ্রিষ্টধর্ম শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। ৮. অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন কার্যকর করে মূল মালিকদের জমি ফেরত দেওয়া।
এসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া’র সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন— রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট দীপংকর ঘোষ, ঢাকা ক্রেডিট-এর প্রেসিডেন্ট মাইকেল জন গমেজ প্রমুখ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই যৌক্তিক দাবিগুলো অনতিবিলম্বে মেনে না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।