চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেছেন, “স্বর্ণের ডিম পাড়া হাঁস জবাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।”
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াউল হক অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী মহল এবং সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ‘ইকোনোমিক হিটম্যান’ চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিদেশিদের হাতে বন্দর ইজারা দিলে দেশ কী দেবে এবং বিনিময়ে কী পাবে—এই মৌলিক প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব কোথায়?”
সংগঠনটির দাবি, কনসেশন চুক্তি ও অপারেটর নিয়োগ এক নয়। জিয়াউল হক বলেন, “কনসেশন মডেল মূলত নির্ভরশীল ও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে দেখা যায়। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক হাবে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তা চায় না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের বন্দরের বিষয়ে প্রচলিত কিছু তথ্য “অর্ধসত্য বা বিভ্রান্তিকর”।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—বন্দর বিকেন্দ্রীকরণ, নিজস্ব শিপিং লাইন চালু, আরবি ভাষার মাধ্যমে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, নদী-খাল খনন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলেও দাবি করেন জিয়াউল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।