নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু নিকেতন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে। একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত বিদ্যালয়টি এখন জরাজীর্ণ ভবন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আর্থিক সংকটে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে মরহুম ইজহার আহমেদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রাথমিক স্তরে পাঠদান শুরু হলেও পরে তা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয় এবং পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তবে সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে আগাছা, ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে আছে। মাঠে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলেও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। অনেক সময় আংশিক বেতন দেওয়া হলেও কয়েক মাসের বকেয়া থেকে যাচ্ছে। এতে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অন্য প্রতিষ্ঠানের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে এখানে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলেন, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহীদ মিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের জাতীয় দিবসে অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
এদিকে বিদ্যালয়ের চারপাশে দীর্ঘ ১৬ বছরেও সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণ না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজ আলম বলেন, সিসিটিভি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকায় আয় সীমিত, ফলে বেতন দিতে দেরি হয়।
গুদাম ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বোর্ডের শর্ত পূরণে শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখানো প্রয়োজন হয়, তবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন কোনো সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।