দেশীয় প্রযুক্তিতে কোস্টগার্ডের জন্য ৫ পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ শুরু

ম.ম.রবি ডাকুয়া :
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে পাঁচটি অত্যাধুনিক রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কিল-লেয়িং সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বুধবার (১৭ জুন) ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেড প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে এসব নৌযান নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডিইডব্লিউর নিজস্ব কারিগরি ও প্রকৌশল দক্ষতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেলের দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার এবং গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার। ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এসব নৌযান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে।

নৌযানগুলোতে আধুনিক নেভিগেশন রাডার, জিপিএস এবং নাইট ভিশন প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া ও রাতের অন্ধকারেও কার্যকরভাবে টহল, উদ্ধার এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে এসব ভেসেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ডিইডব্লিউর কর্মকর্তারা জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

তারা আরও বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রকৌশলী ও কারিগরদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের জাহাজ নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজগুলো কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মান ও টেকসইতা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ প্রকল্প শুধু কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিই নয়, বরং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মবিশ্বাস ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও প্রতীক। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নদী ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত