প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা জনগণের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিষয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সময় দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না। তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘মনে আছে তো, একাত্তরে তারা কী করেছিল? ’৮৬ সালে কী করেছিল? আবার দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ও তাদের কোথাও দেখা যায়নি।’
আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ, গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মানুষ বিএনপিকে বলেছে—তোমরা দেশ গড়ে তোলো। আগামী পাঁচ বছর তোমাদের সময় দিলাম দেশকে ঠিক করার জন্য। কারণ স্বৈরাচার দেশকে খালি করে দিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নই জনগণের পরিকল্পনা। যারা এ পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে চায়, তাদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
‘বিএনপির কিছু করার দরকার নেই। জনগণ সতর্ক থাকলেই হবে। কারণ এ দেশের মালিক জনগণ। মালিক সতর্ক থাকলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না,’ বলেন তিনি।
অর্থ পাচার রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক যুগে কীভাবে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তা দেশ-বিদেশের সবাই দেখেছে। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই পাচার বন্ধ করা হবে। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যয় হবে।’
দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনের সময় কাজ করার, দেশ গড়ার এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার সময়। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণ দেশ স্বাধীন করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণই দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। কাজেই দেশকেও গড়ে তুলবে জনগণই।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ ও দেশের মানুষকে ঘিরে। দেশ গড়াই হবে আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।’
সমাবেশে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা, শিক্ষার্থীদের ড্রেস বিতরণ ও ক্রীড়া কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ উপকৃত হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের প্রান্তিক নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি ১০ জন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে দেশের আরও ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এছাড়া চা-শ্রমিকদের আবাসন, শিক্ষাবৃত্তি এবং দুঃস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে একটি আম ও একটি নিমগাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা-বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র: বাসস