বরগুনা জেলায় চলতি জুন মাসের প্রথম ১৭ দিনে বিভিন্ন ঘটনায় ২১টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে সংঘটিত তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত ই খুদা।
বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ৮ জুন সংঘটিত শামিম হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ১৩ জুন পাথরঘাটা পৌর এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পাশ থেকে মিজানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দুই নামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, মাদক ও সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি ইব্রাহিম হোসেন ওরফে বস্তি কালু একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিল। ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে কালুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে সাতটি পৃথক ঘটনায় নয়জনের অপমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বজ্রপাত, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণ রয়েছে।
১০ জুন ঢলুয়া গ্রামে নুপুর বেগম (৩৫) ও তার দুই বছর বয়সী ছেলে শাহাজাদা পুকুরে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ৭ জুন পরিমল চন্দ্র (৫০) বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নিহত হন। ৫ জুন পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান মো. মহিউদ্দিন (৪০) ও মো. ওলিউল্লাহ (৪৫)।
এছাড়া ৩ জুন আমতলী এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে গ্যাসের কারণে অক্সিজেন সংকটে জাহিদ (৩৫) ও জাফর (৫৫) মারা যান। ৮ জুন মো. আবু তালাহ (২) নিজ বাড়ির পুকুরে পড়ে মৃত্যুবরণ করে।
পুলিশ জানায়, ১০ জুন বরগুনা সদর হাসপাতাল এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে তিন মাস বয়সী একটি ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আত্মহত্যাজনিত সাতটি ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জুন বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তার দুই মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩) ও আরাধা বিশ্বাসের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ৫ জুন থেকে ১৩ জুনের মধ্যে বরগুনা সদর এলাকায় বার্ধক্যজনিত কারণে ছালেহা বেগমের (৯৩) মৃত্যু হয়। একই সময়ে মোসা. রুবি আক্তার কনা (৩৪), বামনা উপজেলার আবির হোসেন (১৮), বেতাগী উপজেলার প্রনিতা (২১), তালতলী উপজেলার মো. মামুন খান (৩০) এবং তালতলী থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. ফারুক গাজীর মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. কুদরত ই খুদা বলেন, ‘প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’