জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার ঘটনার বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা, যৌন হয়রানি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
গত ১২ মে রাতে সংঘটিত ঘটনার পর ১৩ মে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বরে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় আন্দোলনকারীরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার, প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহিতা ও পদত্যাগ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, কার্যকর হটলাইন চালু এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার।
আন্দোলনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে আরও কয়েকটি নারী হয়রানির ঘটনার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশাসন এসব ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং ভিক্টিম-ব্লেমিংয়ের আশ্রয় নিয়েছে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন।
গত ১৭ মে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা নতুন করে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল—অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ।
বুধবার (২০ মে) আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের কাছে অগ্রগতির ব্যাখ্যা চান এবং মৌন মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে সমবেত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হলেও প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইসঙ্গে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, যৌন নিপীড়নের বিচার এবং কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।