পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। এরই প্রভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখনো মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে শুরু করেছেন অনেক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী। পাশাপাশি উপজেলার কিছু ছোট শিল্প-কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় ও যানবাহনের কিছুটা জটলা দেখা গেলেও মহাসড়কের কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি শুরু হলে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৫ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশমুখ হওয়ায় প্রতি ঈদেই এ এলাকায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গী ও কোনাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ যানবাহন চন্দ্রা হয়ে চলাচল করায় এ মোড়ে চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত সড়ক ডিভাইডার নির্মাণ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সড়কের পাশে বাস কাউন্টার ও অবৈধ দোকানপাটের কারণে প্রতিবছর চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও যাত্রীরা ডিভাইডারকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। পাশাপাশি মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের সামনেই এসব যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
যানজট নিরসনে এবার প্রায় এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি নতুন করে চার প্লাটুন এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, আগামী সোমবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ আরও বাড়বে। তবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন। যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।