কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের যশোদল মধ্যপাড়া, রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ও আশপাশে কথিত মাদক কারবার ও মাদকসেবনের অভিযোগে পরিচিত কয়েকটি স্থানের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করেন।
এতে সিদ্ধিশ্বরী জামে মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় বাসিন্দা, ছাত্র-যুবসমাজ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা, রেললাইনের পাশ এবং যশোদল মধ্যপাড়ার কয়েকটি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ ছিল। এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শত শত মানুষ মাদকবিরোধী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা কয়েকটি কথিত মাদকের আস্তানা ভেঙে ফেলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পরিত্যক্ত ও অস্থায়ী স্থাপনা মাদকসেবীদের আড্ডাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভবিষ্যতে যাতে সেগুলো পুনরায় ব্যবহার করা না যায়, সে উদ্দেশ্যে কয়েকটি স্থাপনায় আগুনও দেওয়া হয়।
এ সময় পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহউদ্দিন ফারুকী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “রেলওয়ের জায়গা কিংবা রেললাইনের আশপাশে কোনো অবস্থাতেই মাদকের আস্তানা গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। কেউ অবৈধভাবে জায়গা দখল করে মাদক কারবার পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকের বিস্তারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যশোদল মধ্যপাড়া ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বেড়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছিল। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাদকবিরোধী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সচেতন মহল বলছে, নিয়মিত পুলিশি নজরদারি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে স্থায়ীভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
অভিযানের পর যশোদল মধ্যপাড়া, রেলস্টেশন এলাকা ও আশপাশে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতা ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে কিশোরগঞ্জকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।