তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

মোঃ নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিস্তা অববাহিকার মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি নিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার লালমনিরহাটের তিস্তা অবসরে নদী পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনকল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় তিস্তা পাড়ের মানুষ যাতে সর্বোচ্চ সুফল পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি উপকার নিশ্চিত করেই সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। তিস্তা অববাহিকার মানুষ যাতে স্থায়ীভাবে উপকৃত হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে প্রকল্পটি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে নিজস্ব অর্থায়নেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

এর আগে মন্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা নীলফামারীর চাঁদের হাট, কচুকাটা, টেংগন নদী, জলঢাকা ও দেওনাই এলাকা এবং লালমনিরহাটের চাড়ালকাটা নদী, রাজারহাট, ধানজাই ও তিস্তা প্রধান সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা নদীভাঙন, পানি ব্যবস্থাপনা ও সেচ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনগণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত