জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের মুক্তি ও উন্নয়ন চায়। দলের উন্নতি নয়, বরং দেশবাসীর কল্যাণ নিশ্চিত করতেই তারা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর মহানগরী আয়োজিত সুধী সমাবেশের আগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেশের মানুষের উন্নয়ন চাই। আমাদের দলের মুক্তি নয়, দেশবাসীর মুক্তি চাই। আমাদের দলের উন্নতি নয়, দেশবাসীর উন্নতি চাই। এভাবে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই।”
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের প্রতি সুবিচার করাকে তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। এ অঞ্চলের উন্নয়নে রংপুরকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, রাষ্ট্রীয়, বেসরকারি কিংবা যৌথ উদ্যোগে কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়া হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল সেটিকে অগ্রাহ্য করছে। আমরা এই কর্মসূচি থেকে সরে আসব না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চলবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা রূপান্তরমূলক অধ্যাদেশগুলো বর্তমান সরকার বাতিল করেছে এবং সংসদে সেসব নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেয়নি। এ কারণে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বলেও জানান তিনি।
সংসদের পরিবেশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের মতো সংসদে গান গাওয়া বা গালিগালাজের সংস্কৃতি দেখতে চায় না জামায়াত। সংসদ হবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেন, “সংসদ তামাশার জায়গা নয়। এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। তাই জনগণের কল্যাণে কথা বলতে হবে।”
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের আলোচনার দাবির পর সরকার কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় দ্রুত সংকটের সমাধান হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন, বিভিন্ন জেলায় প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো জনগণের সঙ্গে “তামাশা” করার শামিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কারো পরিকল্পনাই চূড়ান্ত নয়, আল্লাহর মহাপরিকল্পনাই চূড়ান্ত। অতীতের সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং এটিএম আজম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।