ভারতের সঙ্গে গত বছরের সংঘাতে পাকিস্তানের ‘ঐতিহাসিক সামরিক জবাব’ নয়াদিল্লিকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছিল বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে তিনি ওই সংঘাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রোববার রাজধানী ইসলামাবাদ-এ মারকা-ই-হক বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সেনাপ্রধান আসিম মুনির, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
ভাষণ শুরুর আগে দেশের প্রতিরক্ষায় প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
ভাষণে তিনি কাশ্মীরের পাহেলগাম ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ওই হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এদিকে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের সুদূরপ্রসারী ও বেদনাদায়ক পরিণতি হবে।
রাওয়ালপিন্ডি-তে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর সহায়তায় পাকিস্তান, এর জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। অন্যদিকে শত্রুপক্ষ পরাজয় ও অপমানের মুখে পড়েছে।”
পাকিস্তানের দাবি, ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে রাতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের ওপর উসকানিবিহীন হামলা চালায়। এর জবাবে ৮৭ ঘণ্টার সংঘাতে পাকিস্তান ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান—যার মধ্যে ফরাসি নির্মিত রাফালও ছিল—এবং একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করে।
দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ এই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে আসিম মুনির বলেন, “এই দিনটি পুরো জাতির জন্য গর্বের। এই সাফল্য দেশের শক্তি, ঐক্য ও সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু দুটি দেশের মধ্যকার যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি মতাদর্শের মধ্যে একটি নির্ধারণী লড়াই, যেখানে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছে।”