ইমাম ভাতা প্রকল্পে স্বচ্ছতা চান আলেমরা, খতীবদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
 ছবি: নিউজ ওয়ান
ছবি: নিউজ ওয়ান

ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিশেষ সম্মানী ভাতা প্রকল্পে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছে ‘শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির দাবি, এই মহৎ উদ্যোগের সুবিধা প্রকৃত হকদারদের বদলে অনেক ক্ষেত্রে সচ্ছল ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে তারা সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি পেশ করেছে।

 

​রোববার (১৫ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক পর্যালোচনামূলক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি শামীম মজুমদার।

 

​সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

 

অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত ও স্বল্প আয়ের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অগ্রাধিকার না দিয়ে শহরের অনেক সচ্ছল ইমামকে এই ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

 

​বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অনেক জায়গায় সরকারি অনুদান পাওয়ায় মসজিদ কমিটি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আগের নির্ধারিত বেতন কমিয়ে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

 

​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো:

​১. প্রকৃত ইমাম, খতীব ও মুয়াজ্জিনদের যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা এবং খতীবদেরও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা।

 

২. গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার অসচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

 

৩. স্থানীয় প্রশাসন ও আলেমদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করা।

 

৪. ইমামদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

 

৫. ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

​সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ইসহাক মাহমুদ রফিকীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট ওলামা ও মাশায়েখগণ। বক্তারা বলেন, সঠিক নীতিমালা ও তদারকি না থাকলে এই মহৎ উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই দ্রুত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত