রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ কদম তলা এলাকায় একটি জামে মসজিদের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় তৌহিদী জনতা। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু রওশন আক্তারের অবৈধ হস্তক্ষেপ ও জমি দখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা জানান, 'মুহাম্মাদীয়া জামিয়া শরীফ কমপ্লেক্স জামে মসজিদটি' ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মরহুম হারুনুর রশীদ খান (সাবেক জেলা জজ), মরহুমা আঞ্জুমানারা বেগম এবং সুরাইয়া চৌধুরী মসজিদের জমিটি দান করেন, যার বৈধ দলিল মসজিদ কমিটির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে স্থানীয় একটি চক্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের জমি একটি ভূমিদস্যু গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে আদালত মামলা খারিজ করে দিলেও ভূমিদস্যু রওশন আক্তার ও তার বাহিনী বারবার জমিটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রওশন আক্তার এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ারুল হক শরীফ হত্যাসহ মাদক ও নারী পাচারের একাধিক মামলা রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী এই নারী বর্তমানে ভোল পাল্টে বিএনপি নেতা ও ক্যাডারদের নাম ভাঙিয়ে নতুন করে তান্ডব শুরু করেছে।
সম্প্রতি তারা মসজিদের সীমানা দেয়াল ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৮৪৫) করা হয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত মুসল্লিরা বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। এই ভূমিদস্যু চক্রের কারণে বর্তমানে মসজিদে নামাজ আদায় করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে রওশন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে মসজিদের জমি ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আবু ইউসুফ ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হুসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।